এহসানুল হক, বসিরহাট, আপনজন: আবাস যোজনায় নাম এসেছিল, কিন্তু নিজের নাম নিজেই বাদ দিয়েছেন। কুঁড়িঘর ত্রিপলের ছাদ বৃষ্টিতে জল চুইয়ে পড়ে, এমনই এক দরিদ্র পরিবারের বাসিন্দা সুপর্ণা দাস। সেই পরিবার থেকে বসিরহাট এক নম্বর ব্লকের নিমদারিয়া কোদালিয়া পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তার বক্তব্য, আমি এলাকার মানুষের প্রতিনিধি, আগে আমার এলাকার অসহায় মানুষরা রয়েছেন তারাই পাকা বাড়ি পাক, তারপর সবার শেষে যদি আমার হয় হবে, আমি পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে মহিলাদের স্বনির্ভর করতে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে অনেক কাজ করতে পেরেছি, গ্রামে যারা স্কুল ছুট ছিল তাদের স্কুল মুখে করতে পেরেছি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপর্না দাস এর দুই সন্তান তাদের পড়াশোনার খরচের জন্য এখনো তিনি বিড়ি বাঁধেন। পাশাপাশি তার স্বামী একটি সেলুনের কাজ করেন। আর সেই টাকাই সংসার গুজরাট করেন তিনি। এলাকার মানুষেরা বলছেন, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সংসদ ৭৬ নম্বর বুথ থেকে নির্বাচিত হন সুপর্ণা দাস। তাকে প্রধান নিযুক্ত করেন এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী বর্গ। সকালে উঠেই তার প্রথম কাজ হয় বিড়ি বাধা। তারপর সাংসারিক কাজ করে মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে নিজে যান অফিসে। বাড়ি ফিরে অবসর টাইমেও বিড়ি বাঁধেন তিনি। পঞ্চায়েত প্রধান আমার কাছে একটা স্বপ্ন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রীবর্গ আমাকে সেই সম্মানে সম্মানিত করেছেন। আমার এলাকায় অনেক দুস্থ অসহায় মানুষ রয়েছেন তাদের সেবা করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করি। সাকচুড়া কোদালিয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সাহারাব মন্ডল তিনি বলেন, আমরা এমন একজন মানুষকে আমার পঞ্চায়েতের প্রধান পেয়েছিলাম খুব নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। আমরা বারবার ঘর পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি আবাস যোজনা ঘর নিতে রাজি হননি। এই তিনি বিড়ি বেঁধে সংসার চালান। জেলা পরিষদের সদস্য শাহনুর মন্ডল বলেন, ছাত্র পঞ্চায়েতের প্রধান সুপর্না বিশ্বাস খুবই ভালো ঘরের মেয়ে। এই পাঁচ বছর খুব সুন্দর ভাবে মানুষের পরিষেবা দিয়ে গিয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দলের তরফ থেকে তার বিশেষ জায়গা দেওয়ার জন্য। তার সংসার কিভাবে চলে সেদিকেও আমরা নজর রেখেছি। আমাদের তরফ থেকে যতটুকু সাহায্য করার আমরা তাকে করেছি।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct