সুব্রত রায় ও এম মেহেদী সানি, কলকাতা, আপনজন: কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কারসাজিতেই তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় দলের তকমা হারিয়েছে বলে দলনেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করলেন। জাতীয় দলের মর্যাদা হারানো রুখতে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফোন করে অনুরোধ জানিয়েছেন বলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবিকেও তিনি নস্যাৎ করে দিয়েছেন। মঙ্গলবার হুগলির সিঙ্গুরে সভা করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে তিনি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছিলেন, ‘জাতীয় দলের মর্যাদা ফেরানোর জন্য চার বার ফোন করে অনুরোধ করেছিলেন মমতা, কিন্তু প্রত্যাখ্যান করেছেন অমিত শাহ।’ বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ওই বিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘যদি ফোন করার কথা প্রমাণ হয় তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেব।’ সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের কাজকর্ম, বিজেপিশাসিত রাজ্যে দুর্নীতি ইত্যাদি ইস্যুতে মমতা তীব্র সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি সম্পর্কে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, কেউ কিছু একটা বলল আর অমনি টিভিতে চালিয়ে দিলেন, কাগজে লিখে দিলেন! কিন্তু একবারও কী ক্রস চেক করার প্রয়োজন মনে করেছেন? যেটা বলছে সেটা সত্যি কী না? প্লিজ এটা করবেন না। কেউ কেউ মিথ্যে কথা বলে বদনাম তো করছেই। তার পর যখন সত্যিটা বেরোচ্ছে, তখন এক লাইন খবর মাত্র। তার মানে কী মানুষের কাছে তৃণমূল কংগ্রেস সম্পর্কে একটা ভুল বার্তা দিচ্ছে বিজেপি, পরিকল্পিতভাবে। এবং কিছু মিডিয়ার সাহায্যে। মিডিয়া ট্রায়ালের সাহায্যে।’
মমতা বলেন, ‘গতকাল আশ্চর্যজনকভাবে কিছু মিথ্যাচার, ধ্বংসাত্মক কথাবার্তা বিজেপির একটি মিটিং থেকে শুনছিলাম। আপনারা সবাই সেটা টিভিতে দেখিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে দেখালেন, বদনাম করলেন। কিন্তু আমাকে একবারও জিজ্ঞেস করেছেন, আমার অফিসকে জিজ্ঞেস করেছেন? কোন একজন ভুঁইফোঁড় নেতা জনসভায় বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় পার্টির মর্যাদা চলে যাওয়ার পর আমি নাকি ওদের যিনি সবচেয়ে বড় নেতা ‘শাহজী’ তাকে নাকি আমি চার বার ফোন করেছি! এটা আপনারা সারাক্ষণ কাল টিভিতে দেখিয়েছেন, আজকে কোনও কোনও কাগজে তা লেখা হয়েছে। আপনারা কী আমার কাছে ক্রস চেক করেছেন? সত্যিই আমি ফোন করেছি কী না?’ মমতা বলেন, ‘ আমি তাঁর পদত্যাগ চেয়েছি। সংবিধানকে চক্রান্ত করে ভাঙবার জন্য। সাংবিধানিক পদটাকে, ফেডারেল কাঠামোকে গায়ের জোরে ভাংবার জন্য। তার কথাবার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলভ আচরণ নয়, সংবিধান সম্মত নয়, সেজন্য তার পদত্যাগ দাবি করেছি এই পর্যন্ত। আমি তাকে চার বার ফোন করেছি একথা যিনি বলেন, তাকে জনগণের কাছে নাকখত দেওয়া উচিত। আর আমি যদি ফোন করে থাকি তাহলে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি আমি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেব। আর যদি তারা মিথ্যে কথা বলে আপানাদের দিয়ে প্রচার করিয়ে থাকে মিথ্যে কথা, তাহলে বলুন, যারা করিয়েছে এবং যারা করেছে আপনারা কী এজন্য নাকখত দেবেন? না পদত্যাগ করবেন? না আপানাদের নেতারা পদত্যাগ করবে?’ আগামী ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি জিতবে না বলেও মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সর্বভারতীয় দল ছিল, আছে, থাকবে। মমতার বক্তব্য, “নির্বাচন কমিশন আপনার হাতে মানে আপনি যা খুশি করতে পারেন? নিয়ম কী বলে? ১০ বছর পর রিভিউ হয়। শেষবার ২০১৬ সালে রিভিউ হয়েছিল। সেই হিসাবে আমাদের ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় পাওয়া হয়েছিল। অন্তত ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় পাওয়া উচিত ছিল। আমরা কারও দয়ায় সর্বভারতীয় দল হইনি। দলের নাম সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ছিল, থাকবে। বিজেপির হাতে কমিশন আছে, ওরা নির্বাচন কমিশন দিয়ে যা খুশি করাতে পারে। আমাদের পাশে মানুষ আছে। আমরা মানুষকে দিয়ে করাব। মিথ্যা বেশিদিন চলে না। আজ ক্ষমতায় আছেন বলে যা খুশি করবেন না।”
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct