নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর, আপনজন: একাধিক দাবিতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘেরাও অবস্থানে আদিবাসীদের সংগঠন ভারত যাকাত মাঝি পরগনা মহল। সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলাশাসকের দপ্তরের দরজা লাগিয়ে পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। কালেক্টরেটে প্রবেশের মুখে ধরনা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। কয়েক হাজার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছেন। প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করে দেওয়া হয়েছে মঞ্চ সংলগ্ন চত্বরে। সোমবার বেলা বারোটার পর থেকে দিনভর অবরুদ্ধ জেলা শাসকের দফতর । অন্যদিকে পরপর একই ভাবে বন্ধ করা হল জেলার শিক্ষা ভবন ও প্রাথমিক শিক্ষা সংলদকে। সংগঠনের দাবি-“সাঁওতালি মাধ্যমে পঠন পাঠানোর পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে, আর্থিকভাবে সংগতি সম্পন্ন ও অ-আদিবাসীদের এস টি সম্প্রদায় ভুক্ত করা চলবে না, আদিবাসী হোস্টেল গুলিতে হোস্টেল ফান্ড দিয়ে অবিলম্বে সবগুলি চালু করতে হবে, প্রভৃতি। সোমবার বেলা বারোটা থেকে অবরোধ করে রাখে জেলা শাসকের দফতর ।পরে বেলা সাড়ে বারটা নাগাদ আন্দোলনকারীদের একটি অংশ জেলার শিক্ষা ভবনে গিয়ে হাজির হয়। দশ মিনিটের সময় দিয়ে বেরিয়ে যেতে বলা হলো কর্মীদের। শিক্ষা ভবনের আধিকারিক ডি আই চাপেশ্বর সর্দারকে দশ মিনিটের মধ্যে অফিস বন্ধ করে বেরানোর হুঁশিয়ারি দেয় আদিবাসী নেতৃত্বরা । পরিস্থিতি সামাল দিতে হাজির হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। আদিবাসীদের দাবি মতো শিক্ষা ভবনে কাজ বন্ধ করে বেরিয়ে যেতে হয়েছে সমস্ত কর্মীকে । সোমবার সন্ধা পর্যন্ত সেই ঘেরাও কর্মসুচী চলেছে । সব দাবি না মেটা পর্যন্ত অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে আদিবাসীরা । উল্লেখ্য, কয়েকমাস ধরে জঙ্গলমহলের মাহাতো কুড়মীরা আন্দোলন শুরু করেছে –তাদের এস টি সম্প্রদায় ভুক্ত করার দাবিতে । এবার পাল্টা চাপ আদিবাসীদের । তাদের দাবি- এই দাবি মানা চলবে না ।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct