আপনজন ডেস্ক: ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর; ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া। কিছুটা বড়সড় আকারের ভূমিকম্প হলেও ক্ষয়ক্ষতির খুব একটা তথ্য পাওয়া যায়নি সেখানে। কারণ হিসেবে দেখা যায়, কম্পন শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেই ওই এলাকার বেশির ভাগ লোক তাঁদের ফোনে সতর্কবার্তা পেয়ে যান। ভূমিকম্পের প্রাথমিক সতর্ক ব্যবস্থা হিসেবে সে সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে মানুষকে সতর্ক করা গেলেও ভবিষ্যতে ভূমিকম্প শুরু হওয়ার অনেক আগেই সবাই সতর্ক হতে পারবে বলে আশা করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ভূমিকম্পের পূর্বাভাসজনিত পুরো প্রকল্পটিকে আলোর মুখ দেখাতে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ‘ইউএসজিএস’ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সঙ্গে আছে গুগল। এই ব্যবস্থায় প্রাথমিকভাবে মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে মানুষকে সতর্ক করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য পদ্ধতিটি অনেকাংশে কার্যকর। কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাওয়ার মানে হলো দ্রুত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিয়ে নিজেকে নিরাপদ জোনে নিয়ে আসা, চলন্ত ট্রেন বা ভারী শিল্প-কারখানার কাজের গতি কমানো বা বিমানকে উড্ডয়ন ও অবতরণ থেকে থামিয়ে রাখা কিংবা গাড়িকে টানেলে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখার জন্য কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট।
ভূমিকম্পের সতর্কবার্তার তথ্য বিশ্লেষণের জন্য ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে প্রায় ৭০০ সিসমোমিটার যন্ত্র স্থাপন করেছে ইউএসজিএস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে। অন্যদিকে গুগল তার অপারেটিং সিস্টেম অ্যানড্রয়েডের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম ভূমিকম্প শনাক্তকরণ নেটওয়ার্ক তৈরিতে মন দিয়েছে। গুগলের অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোনে অন-বোর্ড অ্যাক্সিলোমিটার থাকে। অন-বোর্ড অ্যাক্সিলোমিটার সিস্টেম মোবাইল ফোনকে পোর্ট্রেট থেকে ল্যান্ডস্কেপ মোডে নিতে কাজ করে। মোবাইলের ডিসপ্লে কাত করলে অপারেটিং সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যাল পেয়ে যায়। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পেতে গুগলের এই সেন্সের ছোটখাটো সিসমোমিটার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট এলাকার লাখ লাখ মোবাইল ফোনের অন-বোর্ড অ্যাক্সিলোমিটার সিস্টেম যখন একসঙ্গে কাজ করে তখন এসব তথ্য একসঙ্গে করে গুগল বুঝতে পারে ভূমিকম্প ঠিক কোথায় হচ্ছে এবং একই সঙ্গে আশপাশের এলাকার মানুষের মোবাইলে পূর্বাভাস পাঠাতে শুরু করে দেয়। রেডিও সিগন্যাল ভূমিকম্পের তরঙ্গের চেয়ে কিছুটা দ্রুত চলার কারণে মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীরা সতর্কবার্তা পেয়ে যান এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে পুরো বিশ্বে এক হাজার ৬০০ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হলেও ৩০০ কোটির বেশি মোবাইলে অ্যানড্রয়েড সুবিধা আছে। অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারী এই সংখ্যা ৯০টি দেশে সবচেয়ে বেশি এবং এসব দেশে ভূমিকম্প সতর্কবার্তা পাঠানোর কাজ শুরু করেছে গুগল। তবে অ্যানড্রয়েড ডিভাইসগুলো থেকে গুগলের সঠিক তথ্য পেতে ওয়াই-ফাই বা মোবাইল ডাটার মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে এই ব্যবস্থার কিছুটা সীমাবদ্ধতাও আছে। দুর্গম এলাকায় বেশিসংখ্যক অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারী না থাকার কারণে সেসব এলাকা থেকে পরিপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct