আপনজন ডেস্ক: রাতের বেশি খাবার বেঁচে যাওয়ায় (বিশেষ করে ভাত) তা সংরক্ষণ করতে তাতে আগে জল ঢেলে দেওয়া হত। মূলত, এর ফলে গরম আবহাওয়ার কারণে ভাত নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচত।পান্তা ভাতের প্রচলন হয়েছিল এই উপমহাদেশে। সারা রাত ধরে ভাতে জল ঢেলে ঢেকে রাখা পান্তা ভাত খুব সাধারণ এবং প্রচলিত খাবার হলেও এর শারীরিক উপকারিতা অনেক। গ্রামাঞ্চলে এখনও যারা গরমে মাঠে কাজ করেন তারা দুপুরে পান্তা ভাত খান। এই ভাত স্বল্প আয়ের মানুষের খাবার হিসেবেই অধিক পরিচত। অথচ এ ভাতের বহু উপকারিতা রয়েছে। গরমে সুস্থ রাখতে পান্তার জুড়ি নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, পান্তা ভাতের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২ রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে (১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর) ৭৩ দশমিক ৯১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। অন্যদিকে একই পরিমাণ গরম ভাতে আয়রনের পরিমাণ থাকে মাত্র ৩ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম। এছাড়া ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে পটাসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫০ মিলিগ্রামে। এছাড়া ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ ভাতে আয়রন থাকে ৩ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে ওই ভাতই ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে আয়রনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৯ মিলিগ্রামে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী পান্তা ভাত। জল দিয়ে রাখার কারণে ভাতের ভেতরে একটি রাসায়নিক ফেনা উৎপন্ন হয়, যে প্রক্রিয়ার দ্বারা ভাতের ভেতরে থাকা কার্বোহাইড্রেট ভেঙে যায়। এতে ভাতের মধ্যে থাকা অ্যান্টি নিউট্রিশনাল ফ্যাক্টরগুলির ক্ষয় হয় এবং ভাতটা যথেষ্ট আর্দ্র থাকে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct