এহসানুল হক, বসিরহাট, আপনজন: নিম্নমানের কাঁচামাল সামগ্রী দিয়ে নির্মান করা হচ্ছে জল নিকাশি ড্রেন। পঞ্চায়েতে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা না গ্রহন করা হয়নি , অবশেষে ড্রেন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিল স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটে বসিরহাট দুই নম্বর ব্লকের অন্তর্গত মাটিয়া শ্রীনগর গ্রাম পঞ্চায়েত লাগোয়া গোয়ালতলা এলাকায়। বহুদিন ধরে নেই জল নিকাশি হওয়ার কোন ব্যবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে যায় গোয়ালতলা সহ মাটিয়া শ্রীনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখে বসিরহাট দুই নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে প্রায় ছাব্বিশ লক্ষ্য টাকা ব্যায়ে গোয়ালতলা এলাকায় গত কয়েক দিন আগে থেকে শুরু হয়েছিল জল নিকাশি ড্রেন নির্মাণ কাজ। অভিযোগ,নির্মানের শুরুতেই ঠিকাদার সংস্থা নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে জল নিকাশি ড্রেন তৈরির কাজ করেছিল। ড্রেনের তলায় যে কংক্রিটের ঢালাই দেওয়ার কথা ছিল সেই ঢালাই সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। নিম্নমানের বালি সিমেন্ট ও ইট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল জল নিকাশি ড্রেন।
এই সমস্যার কথা স্থানীয় পঞ্চায়েতে জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা থেকে শুরু করে এলাকার চাষীরা। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই অভিযোগ কর্ণপাত করেননি পঞ্চায়েতের কর্মকর্তারা এমনই বক্তব্য পেশ করেন এলাকার বাসিন্দারা। তারা আরোও অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েতে জানানো সত্বেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই জল নিকাশি ড্রেন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি এলাকার বাসিন্দারা মিলে। একটু বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে যায় এই এলাকার। দীর্ঘদিন ধরে জলমগ্ন থাকায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে এলাকার শতাধিক চাষীদের। সেই সমস্যা সমাধানের জন্য যে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ নিম্ন মনের কাচামাল দিয়ে। এই কাঁচামাল দিয়ে ড্রেন নির্মাণ হলে কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে যাবে ড্রেন। তাই ভালো মানের কাঁচামাল দিয়ে যাতে এই ড্রেন নির্মাণ করা যায়, তার জন্য তারা সেই কাজ বন্ধ করে দেয়। এলাকার বাসিন্দা, বিশ্বজিৎ দাস, সঞ্জয় মল্লিক,কাইপা ফকিররা দাবি করেন, ‘নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছিল, পঞ্চায়েত কে জানিয়েছিলাম কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি, ভালো উচ্চমানের কাঁচামাল দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করতে হবে, না হলে আমরা এই কাজ বন্ধ রাখব’। এই প্রসঙ্গে মাটিয়া শ্রীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রেমেন্দ্র মল্লিক বলেন,’চাষীদের ও এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঙ্গে কথা বলেছি, খুব শীঘ্রই ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার সংস্থাকে নিয়ে এই কাজ পরিদর্শন করা হবে।যাতে উচ্চমানের কাঁচামাল দিয়ে নির্মাণ করা হয় তার ব্যবস্থা করা হবে। এদিন বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক জয়দীপ চক্রবর্তীকে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন যোগে বলেন, এই সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি , অভিযোগ এলে আমি অবশ্যই এই বিষয়টা নিয়ে তদন্ত করে দেখব।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct