সুব্রত রায়, কলকাতা, আপনজন: আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধর্নামঞ্চ থেকে দিল্লি যাওয়ার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বৃহস্পতিবার রেড রোডের ধর্নামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে দিল্লি যাওয়ার ডাক দেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজি স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘দিল্লি চলো’। এবার আরও একবার হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সবাই মিলে জোট বাঁধুন বিজেপির বিরুদ্ধে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, আমি আজ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু একটা ফোনও এল না। তাই এবার ডাক দিচ্ছি – ‘দিল্লি চলো’। কীভাবে দিল্লি যাওয়া হবে সেই বিষয়েও জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ট্রেন ভাড়া করে রাজধানীতে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘মানুষ আমাদের নেতা। আমি বিজেপিকে ডোন্ট কেয়ার করি। যেই আমি সবাই বলেছি জোট করো, তখনই বলছে সবাই দুর্নীতিগ্রস্থ। বলছে সব পার্টি চোর, আর ও একমাত্র সাধু। সাধু বলতেও ইচ্ছা করে না। সাধুরাও আমাদের সন্মানীয়।’ এদিন বিজেপিশাসিত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ফেডারেল স্ট্রাকচার যখন ইচ্ছে ভেঙে দিচ্ছে’। ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা না পাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫ বার পরপর প্রথম হয়েছে ১০০ দিনের কাজে বাংলা। তার পরেও টাকা বন্ধ করে দিয়েছে।’ অন্যদিকে, নাম না করে ফের রাহুল গান্ধির পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রেড রোডের ধর্না মঞ্চ থেকে মোদি সরকারকে নিশানা করতে গিয়ে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির জেলের সাজা এবং লোকসভার সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে পদ্ম শিবিরকে তোপ দেগে বলেন, ‘বাবুরা যা খুশি তাই করে যাবে। দেশকে বেচে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙ্গে দেবে। আর তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই জেলে ভরে দেওয়া হবে। লোকসভার সদস্যপদ কেড়ে নেওয়া হবে। ইডি-সিবিআইকে লেলিয়ে দেওয়া হবে।’
কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এদিন মমতার ধর্না দ্বিতীয় দিনে পা দিয়েছিল। দুপুরে ধর্না মঞ্চ থেকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলার অনেক প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রকল্প বন্ধ করা হয়েছে বাংলার। ৬৩টি প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। একশো দিনের কাজ থেকে শুরু করে আবাস যোজনা-সব টাকা আটকে রেখেছে। এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। যারা খাদ্য জোগান দিতে ধান কাটে, রাস্তা তৈরি করে তাদের টাকা মেরে দেওয়া হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজে আমরা চার বার প্রথম হয়েছি। সড়ক যোজনার কাজে পাঁচ বার প্রথম হয়েছি। শতাধিক টিম পাঠিয়েও কিছু পায়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা নিজেরা স্কলারশিপ চালু করছি। বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা চলছে।’সম্প্রতি রাহুল ইস্যুতে সব বিরোধী দলের জোট বাঁধাকে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অভিযোগ করেন, ‘সব দুর্নীতিগ্রস্তরা জোট বাঁধছে।’ এদিন প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘নন্দলাল (মোদি) বলছেন, সব পার্টি চোর। আর ওরা একমাত্র সাধু। সাধু বলতেও ইচ্ছা করে না। কেননা সাধুরা আমাদের কাছে সম্মানীয়। মুখ খুললেই দেশদ্রোহীর তকমা সেঁটে দেওয়া হচ্ছে। ওরা (বিজেপি) একমাত্র জাতীয়তাবাদী আর বাকিরা দেশদ্রোহী।’ মোদিকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মমতা। প্রধানমন্ত্রীকে নাম না করে ‘নন্দলাল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এবার নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে ‘বাবুলাল’ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বৃহস্পতিবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা-সহ একাধিক বিষয়ে সুর চড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রীকে।কেন্দ্র সরকার শিক্ষা প্রসারে পিএমশ্রী প্রকল্পের অধীনে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিন এই প্রকল্পের নাম নিয়েও কটাক্ষ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বললেন, ‘বাংলায় আমরা কন্যাশ্রী করেছি, ওরা করেছে পিএমশ্রী। আরে নামের পরে কী করে শ্রী বসে? সেতো নামের পরে বসা উচিত। শ্রী পিএম হওয়া উচিত ছিল।’কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘বাংলার প্রতি বঞ্চনার জন্য, ফেডারেল স্ট্রাকচারকে ভেঙে দেওয়ার জন্য, দেশকে বিক্রি করে দেওয়ার প্রতিবাদে ধর্না। কেন্দ্রের শাসক দল দেশ এজেন্সি দিয়ে চালাচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সাংবাদিকরা তৃণমূলের ধরণার খবর তুলে ধরলেও তা দেখানো হচ্ছে না, প্রকাশ করছে না। কারণ সমস্ত সংবাদমাধ্যমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের ধর্নার খবর যেন দেখানো না হয়। অথচ গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ সংবাদমাধ্যম।’
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct