আপনজন ডেস্ক: আপনার সন্তানের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তার সঙ্গে অন্যদের বন্ধুত্বের পরিধিও বাড়তে থাকে। বন্ধুত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ, বিশ্বাস এবং ভালবাসা। পরিচিত গণ্ডি এবং পরিবারের বাইরে পরম নির্ভরতার জায়গা হচ্ছে বন্ধু। তবে ভাল বন্ধুত্ব যেমন আপনার সন্তানের বড় হয়ে ওঠার পথে সাহায্য করে, তেমনই খারাপ সঙ্গ তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আপনার সন্তান কার বা কাদের সঙ্গে মিশছে সেদিকে খেয়াল রাখুন। সন্তান ছোট থাকতেই তার বন্ধুদের সঙ্গে আপনিও যোগাযোগ রাখুন। এতে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানকে বুঝতেও সুবিধা হবে। সন্তানের বন্ধুদের চেনা যেমন জরুরি তেমনি তাদের বন্ধুদের ব্যাপারে আপনি কতটা হস্তক্ষেপ করবেন বা কীভাবে সন্তানকে বন্ধুদের থেকে সাবধান রাখবেন সে বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে হবে। আপনার সন্তান বড় হয়ে গেলে তাদের মধ্যে ছোটখাটো মনমালিণ্য বা ওই ধরনের ঘটনায় অকারণে তাদের মধ্যে ঢুকে সমাধানের চেষ্টা করবেন না। মা বাবা হিসেবে সন্তানের পাশে থাকুন। তাকে গাইড করুন। সন্তানকেই সমাধানের রাস্তাটা বেছে নিতে দিন। সন্তানের কোনও বন্ধুকে বা বন্ধুর গ্রুপকে আপনার পছন্দ না হতেই পারে। তাই বলে সন্তানকে সরাসরি তাদের সঙ্গে মিশতে বারণ করবেন না। আগে নিজে ভেবে দেখুন কেন সন্তানের বন্ধুদের আপনার পছন্দ নয়। যদি মনে করেন, তাদের সঙ্গ আপনার সন্তানের উপর খারাপ প্রভাব ফেলছে তাহলে সন্তানের সঙ্গে সেই বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলুন। সন্তানকে খারাপ দিকগুলি সম্পর্কে সতর্ক করে দিন। দেখবেন এতে হয়তো সে নিজেই সেই দল থেকে সরে আসবে। মাঝেমধ্যে সন্তানের বন্ধুদের বাড়িতে আসতে বলুন। আপনি নিজেও ওদের সঙ্গে গল্প করুন।মাঝেমধ্যে ফোনেও যোগাযোগ রাখতে পারেন। আপনার সন্তান এবং বন্ধুরা একসঙ্গে কী খেলছে, টিভি বা কম্পিউটারে কী দেখছে, কী বিষয়ে গল্প করছে তা খেয়াল রাখুন। তবে আপনার আচরণ স্বাভাবিক রাখুন। খবরদারি করবেন না। বয়ঃসন্ধিতে সন্তানকে কিছুটা স্বাধীনতা দিন। অকারণে সন্দেহ করবেন না। তা না হলে সন্তানের মনে হবে আপনি তাকে বিশ্বাস করেন না। এতে আপনার উপর সন্তানের অকারণ ক্ষোভ তৈরি হবে। সন্তানের নিজস্ব ফোন থাকলেও বন্ধু এবং তার বাড়ির ফোন নাম্বার নিয়ে রাখুন।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct