আপনজন ডেস্ক: যে প্রকল্পের উপর বহু গ্রামীণ পরিবার নির্ভরশীল, সেই মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা যোজনা— এমজিএনআরইজিএ বা চালু কথায়, একশো দিনের কাজ— অনিশ্চিত হয়ে পড়ল পশ্চিমবঙ্গে। সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক ২০২৩-২৪ অর্থবর্র্ষের জন্য পশ্চিমবঙ্গের জন্য মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (এমজিএনআরইজিএস) তহবিল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার জন্য মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের ২৭ ধারার মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হযেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম এই নিয়মটি প্রয়োগ করেছিল সরজমিন জরিপের ভিত্তিতে, যেখানে বড় আকারের দুর্নীতি এবং নির্দেশিকা লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হয়। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের পাওনা ৭,৫০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে শুধুমাত্র শ্রম মজুরির পরিমাণ ২,৭৪৪ কোটি টাকা। যেসব শ্রমিক তাদের কাজের জন্য অবৈতনিক রয়েছেন, তারা এই আইনের অধীনে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পাননি। গত ১৩ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন ও কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকের পর গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার ৩২ কোটি কর্মদিবস চেয়েছে। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক সরকারি আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন,
এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার তহবিল বন্ধের কারণ জানায়নি। আমরা গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট জমা দিয়েছিলাম এবং ডিসেম্বরে একটি সংশোধিত উত্তর জমা দিয়েছিলাম। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম। তারপর থেকে আমরা আর কোনও প্রশ্ন পাইনি বা মন্ত্রকের কাছ থেকে কোনও উত্তর পাইনি যে তারা ২৭ ধারা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কিনা। রাজ্যের সর্বশেষ চাহিদা তার আগের রেকর্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে রাজ্যে ৩৬ কোটি, ২০২০-২১ সালে ৪১ কোটি, ২০১৯-২০২০ সালে ২৭ কোটি এবং ২০১৮-১৯ সালে ৩৩ কোটি কর্মদিবস ব্যবহার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গই দেশের একমাত্র রাজ্য যার বিরুদ্ধে এই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই আইনের ২৭ নং ধারায় বলা হয়েছে, “কেন্দ্রীয় সরকার কোনও প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীনে প্রদত্ত তহবিলের অনুপযুক্ত ব্যবহারের বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাওয়ার পরে, যদি প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট হয় যে কোনও গরমিল রয়েছে, তবে তার দ্বারা মনোনীত কোনও সংস্থার দ্বারা করা অভিযোগের তদন্ত করতে পারে এবং প্রয়োজনে এই প্রকল্পে অর্থ ছাড় বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে। তবে এই ধারায় আরও বলা হয়েছে, “যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে এর বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা” গ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য, গত মাসে বর্ধমানের সভায় পশ্চিমবেঙ্গর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন, এখনও একশো দিনের টাকা পাঠায়নি কেন্দ্রীয় সরকার। নানা হিসাব চেয়ে দেখলেও উচ্চবাচ্য নেই। বরং কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে টাকা দিতে বিলম্ব করেছে। অবশ্য একশো দিনের কাজে এর আগে দেশে নজির সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যমতে, ২০২১-২২ বর্ষে একশো দিনের কাজে কর্মসংস্থান হয়েছে এক কোটিরও বেশি। আর তাই গুজরাত, উত্তরপ্রদেশকে পিছনে ফেলে পশ্চিমবাংলা একশো দিনের কাজে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা সেরার তকমা পেয়েছিল।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct