আপনজন ডেস্ক: সরকার ও বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, পাল্টা দাবিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও সংসদের দুই কক্ষকে অচল থাকল। বাজেট আলোচনাসহ কোনো কাজ ছাড়াই লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন গোটা দিনের মতো মুলতবি করে দেওয়া হয়। গতকাল সোমবারও ঠিক এমনই হয়েছিল।সরকারপক্ষের দাবি, যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দেশের প্রধানমন্ত্রী, সংসদ ও গণতন্ত্রের অসম্মান করেছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। কংগ্রেসের জবাব, কিছুতেই রাহুল তা করবেন না। কারণ, তিনি দেশের অসম্মান করেননি। সরকার যেভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে, তিনি তা তুলে ধরেছেন। দেশের অসম্মান কেউ যদি করে থাকেন, তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে করেছেন। বহুবার বিদেশে গিয়ে তিনি বলেছেন, ৭০ বছরে দেশটা রসাতলে গিয়েছিল। তিনি টেনে তুলেছেন। অতএব ক্ষমা চাইতে হবে প্রধানমন্ত্রীকেই।
কংগ্রেসের আরও দাবি, হিনডেনবার্গ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগের তদন্তে যুগ্ম সংসদীয় কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্তু ভারত বিরোধিতায় ‘আন্তর্জাতিক চক্রান্ত তত্ত্ব’ তুলে ধরে বিজেপি কংগ্রেসকে কোণঠাসা করতে সচেষ্ট হয়। বিরোধীদের ধারণা, এটা তারা করছে আদানি ইস্যু থেকে দৃষ্টি এড়াতে। কংগ্রেসের অভিযোগ, হিনডেনবার্গ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বহু ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠী লাভবান হয়েছে।লোকসভায় রাহুল সরাসরি এ কথাও জানতে চেয়েছিলেন, গৌতম আদানি কতবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ইসরায়েল সফরে আদানি গোষ্ঠীর জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির তদবিরের অভিযোগও ওঠে। তদন্তের জন্য বিরোধীদের সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি এড়াতেই ইংল্যান্ডে রাহুলের বক্তব্যকে বিজেপি বড় করে তুলে ধরতে চাইছে বলে কংগ্রেসের ধারণা। সে কারণে লোকসভার সঙ্গে রাজ্যসভায়ও বিজেপি সরব। অথচ রাহুল লোকসভার সদস্য। সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, কোনো এক কক্ষের সদস্যকে নিয়ে অন্য কক্ষে আলোচনা চলতে পারে না। যদিও মন্ত্রীদের নিয়ে দুই কক্ষেই আলোচনা করা যায়। আদানি প্রশ্নে যুগ্ম সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবিতে কংগ্রেস ছাড়াও সরব ডিএমকে, এনসিপি ও বামপন্থী দলগুলো। বিহারের আরজেডি, আম আদমি পার্টি ও তেলেঙ্গানার বিআরএস আবার সরব কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর রাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে। তিন দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই এই মুহূর্তে ইডি–সিবিআইয়ের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দিল্লির আপ সরকারের দুই মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ৭ দফা দাবিতে সরব। আদানি তদন্তের দাবিতে সরব হলেও তারা যে কংগ্রেসের সঙ্গে নেই, তা বোঝাতে আজ মঙ্গলবার আলাদাভাবে ধরনা দেয়। বিরোধীরা সবাই অবশ্য চান তাঁদের দাবি মেনে আলোচনা হোক।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct