আপনজন ডেস্ক: পাহাড়ে ঘেরা, সবুজে ঢাকা সাজানো এক লেপচা জনপদ সিটং। কমলালেবুর উপত্যকায় আর এক নতুন ঠিকানা। কার্শিয়াং মহকুমার এই ছোট্ট এলাকাই এখন পর্যটন মানচিত্রের নতুন আকর্ষণ। রয়েছে সাধ্যের মধ্যে হোম স্টে পরিষেবাও। মিনিট দশেক নেমে গেলে পাবেন কমলালেবুর বাগান (শীতকালে)। আপনাকে স্বাগত জানাবে গাছে ঝুলে থাকা থোকা থোকা কমলালেবু। প্রথমদিন পৌঁছে একটু হেঁটে ঘুরে নিন আশপাশের লেপচা গ্রাম, পাঁচ পোখরি, নামথিং পোখরি আর একটু ছোট করে জঙ্গল ট্রেক। দ্বিতীয় দিন চলে যান কবিগুরুর স্মৃতিধন্য মংপুতে। দেখুন টেগোর মিউজিয়াম আর অর্কিড হাউস। যাবার পথেই পাবেন ছোট্ট পাহাড়ি দামাল নদী রিয়াং খোলা আর সেই কমলালেবুর গ্রাম। পরের দিন অর্থাৎ তৃতীয় দিন যেতে হবে লাটপাঞ্চার, আলধারা ভিউ পয়েন্ট। এই জায়গা গুলো এখন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে পাখির দেখার পাওয়ার জন্যে। আকাশ ভরা মেঘ, আর মেঘের মাঝে পাহাড়। শীতকালে চারিদিকে কমলালেবুর বাহার। এই হল কার্শিয়াং-এর সিতং গ্রামের পরিচয়। এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন পাঞ্ছপোখরি, লাটপানচার, মংপু, আহালদ্বারা। পাখি প্রেমি যারা ঘুরে এসেছেন এখান থেকে, তাঁরা বলেছেন তাঁরা নাকি ষোল রকমের পাখি দেখেছেন এখানে !!
কি কি দেখবেন
পাহাড়ের কোলে থাকা ছোট্ট সিটং যেন প্রকৃতির কোনও চিত্রকরের নিখুঁত তুলির টান। লেপচাদের এই গ্রাম কমলালেবু চাষের আঁতুরঘর। প্রত্যেক বাড়িতে রয়েছে সুন্দর অর্কিডের বাগান। সবুজে ঘেরা গ্রামের পথে একটু হাঁটলেই দেখা যাবেন প্রাচীন বাঁশের সেতু ও চার্চ। কমলালেবুর বাগানের মাঝ দিয়ে একেবেঁকে চলে গেছে ছোট্ট রিয়াং নদী। আর সময় পেলে ঘুরে আসতেই পারেন মংপুতে কবিগুরুর বাসভবন। সিটং থেকে লাবদা, সিক্সিন হয়ে ট্রেক করে চলে যাওয়া যায় চটকপুর আবার বাগোরা হয়ে কার্শিয়াং।
সিটং ভ্রমণের সেরা সময়
সিটং ভ্রমণের সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী, যখন সমগ্র গ্রামের গাছগুলো কমলালেবুতে ভরে যায়। এজন্যেই তো সিটং এর আরেক নাম অরেঞ্জ ভ্যালী।
কিভাবে যাবেন
তিন দিক থেকে যাওয়া যায় সিটং এ। সবচেয়ে ছোট রাস্তা শিলিগুড়ি থেকে সেবক হয়ে ৫৫ কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে। দ্বিতীয় রাস্তা শিলিগুড়ি থেকে রামভি ও মংপু হয়ে। তৃতীয় রাস্তা কার্শিয়াং থেকে দিলারাম হয়ে বাগোরা ও ঘরেয়াতার দিয়ে।
কোথায় থাকবেন
নতুন করে তৈরি হয়েছে সিতং চার্চের গেস্ট হাউস। মোট ৯টি অত্যাধুনিক ঘর রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যাবে গরম জল আর সঙ্গে অর্গানিক ফুড। এছাড়া আপার সিটং এ তিনটে খুব সুন্দর নতুন কটেজ হয়েছে। প্রতিটিতে দুটো ডাবল বেড রুম, সঙ্গে টয়লেট, ২৪ ঘন্টা গরম জল গাড়ি রাখার জায়গা সব আছে। নাম রিশান কটেজ। সুন্দর সব ফার্নিচার। সব মিলিয়ে ১৪ থেকে ১৮ জন কে একসঙ্গে থাকতে পারবে। সব থেকে বড় কথা সব ঘর থেকেই আপনি দেখতে পাবেন শ্বেত শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা। কমলালেবুর বাগানের জন্যে অল্প নীচে নামতে হবে। খাওয়া পাবেন সারা দিন। থাকা খাওয়া নিয়ে জনপ্রতি প্রতিদিন ১০০০ টাকা। যদি চার জনের ঘরে দুজন থাকেন তবে ১১০০ টাকা জনপ্রতি, প্রতিদিন। সামনে আছে লন। ব্যাবস্থা আছে বনফায়ারের। মেঘবিতান একটি ঠিকানা যার অবস্থান একদম চা বাগানের মধ্যে আর এখান থেকেই আপনি পাবেন পাহাড়ের সবথেকে মহার্ঘ, ১৮০ ডিগ্রি কাঞ্চনজঙ্ঘার অনুপম দৃশ্য। মেঘবিতানে আছে দুটো পাঁচ বিছানার কটেজ। যদি দুজন থাকেন তবে লাগবে ১৫০০ টাকা, তিনজন থাকলে ১৩০০ টাকা আর চার অথবা পাঁচ জন থাকলে লাগবে ১২০০ টাকা করে। হ্যাঁ, খাওয়া সমেত প্রতিদিন জনপ্রতি হিসাবে। চাইলে তাঁবুতেও থাকা যাবে ১০০০ টাকা হিসাবে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct