সম্প্রতি দিল্লির রামলীলা ময়দানে জমিয়তের ৩৪তম সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানির বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবতা মনু এক ওমের উপাসনা করতেন। তিনি হলেন এক আল্লাহ। পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট মানব। মনু একটি শব্দ যা ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে পাওয়া যায়, যা প্রথম মানুষ বা মানবতার পূর্বপুরুষকে বোঝায়। সেই মনু হচ্ছে আদম। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসহাক মাদানি।
সর্বধর্ম সমন্বয় সভা খোলা ময়দানে হলে তার গুরুত্ব সর্বাধিক। অবশ্যই সে সভায় ধর্মীয় পণ্ডিতবর্গ হন উপস্থাপক বিচারক জনতা।(কোনো কথা জনসমক্ষে আবেগে বলা হয়ে গেলে ক্ষমা চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ কিন্তু কোনো বিষয় দীর্ঘ পড়াশোনা ও গবেষণার পর ব্যক্ত করে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নাতীত হতে পারে না।) (এক) আদম যে প্রথম মানুষ সে সম্পর্কে ইসলাম, ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টান যারা ইব্রাহীমকে তাদের ধর্মীয় প্রপিতা বলে বিশ্বাস করেন তাঁরা সকলে একমত।ইসলামে কল্পনাপ্রসূত কিছু নেই যা কিছু আছে তা বাস্তব। আদম সম্পর্কে মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ আল কোরআনে বিস্তারিত তথ্য আছে সে মতে তিনি প্রথম মানুষ যাকে আল্লাহ তৈরী করেন এবং দুনিয়ায় তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে পাঠান। হিন্দু শাস্ত্রমতে “মনু” একাধিক। তার মধ্যে একজন বিখ্যাত মনু হলেন তিনি যিনি মহাপ্লাবনে কাঠের নৌকায় পরিবারসহ প্লাবন থেকে নিজেকে রক্ষা করেছিলেন। (Wikipedia) নুহকে ইসলামিক তথ্যানুযায়ী দ্বিতীয় আদম বলা হয় ফলে নুহ পরবর্তীদের নুহ সন্তান বলা হয়। ওদিকে মনু পরবর্তীদেরকে মনুর সন্তান বলা হয় বলে অনেকের ধারণা। ফলে মনু এর সংগে নুহ নবীর সাদৃশ্য পাওয়া যায়।মনু>নুহ>মনু । কিন্তু প্রামানিক তথ্য না থাকায় ইসলামিক দৃষ্টি কোণ থেকে কোনো মুসলিম স্কলার বলতে পারেন না যে মনু ই নুহ ছিলেন বা মনু আদম একই ব্যক্তি।
(দুই) আল্লাহ, ওম, গড, ঈশ্বর এক কেউ বললেই যে সবাই তা মেনে নেবেন তা যেমন নয় অনুরূপ বলাও যুক্তিযুক্ত নয়। এহেন সর্বধর্ম সমন্বয় সভায় প্রত্যেক ধর্মীয় পন্ডিত আপন আপন দৃষ্টিকোণ ব্যক্ত করবেন—বিচারক জনতা। এখানে তা না হয়ে যেন সকল ধর্মের তরজমানি এক মুখে ব্যক্ত হয়েছে। উপস্থিত পন্ডিতবর্গ হয়ত একটু বিস্মরণ হয়ে ভেবে বসেছেন যে সে সভায় তাঁরাই বিচারক; কিন্তু বাস্তব তো এটাই যে এ হেন সভায় ধর্মীয় পন্ডিতবর্গ উপস্থাপক মাত্র বিচারক “জনতা”। ইসলামে “আল্লাহ” নামে বা ইলাহ নামে যে গুনের সমন্বয়কে বোঝানো হয়েছে তা স্পষ্টভাবে কুরআনে পাওয়া যায়।” আল্লাহ চিরঞ্জীব চিরজাগ্রত তিনি কাউকে জন্ম দেন নি, কারো দ্বারা জাতও নন তিনি একক তাঁর কোনো অংশিদার নেই তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা তিনি সরাসরি উপাস্য কোনো মাধ্যম এর প্রয়োজন হয় না তিনি আর্তদের ফরিয়াদ সরাসরি মোনেন-ইত্যাদি নিরানব্বই গুণের সমাহারের সত্ত্বা আল্লাহ যা মানুষ তার বিবেক দ্বারা উপলব্ধি করতে সক্ষম। বস্তুত মক্কার লোকের সংগে নবী মুহাম্মদের বিবাদ “আল্লাহ” নাম নিয়ে ছিল না। বরং বিবাদ ছিল তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি নিয়ে। ফলে “ওম” ; “গড” এবং “ইশ্বর” এর সত্ত্বা ও গুণাবলির বর্ণনা “সে” নাম যাঁরা জপ করেন তাঁরা দেবেন। কিন্তু সভায় তা না ঘটায় মতভেদ তৈরি হয়। যার কারনে বাতাসে ধুলোবালি উড়তে শুরু করেছে। বিষয়টি অনেক মুসলিমের নিকটও সংগত মনে হয়নি।
(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)
লেখক অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct