আপনজন ডেস্ক: রাজস্থানে গোরক্ষকরা যখন গরু পাচারের অভিযোগ পুড়িয়ে মারছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গোমাংস বহনের সন্দেহে মারধর করা হচ্ছে তখন মেঘালয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি আর্নেস্ট মাউরি উল্টো পথে হাঁটছেন। যে বিজেপি ‘গোমাতা আলিঙ্গন’ পালন করতে বদ্ধ পরিকর সেখানে মেঘালয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি আর্নেস্ট মাউরি সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি গোমাংস খান। তিনি দাবি করেন, তার দলের মধ্যে এতে কোনো সমস্যা নেই। ২৭ ফেব্রুয়ারি মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডে ভোট হওয়ার কথা। তার এক সপ্তাহ আগে সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে আর্নেস্ট মাউরি এনপিপির সাথে জোট, গোমাংস নিষিদ্ধ এবং সিএএর মতো বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সেই সাক্ষাৎকারে বিজেপি রাজ্য সভাপতি আর্নেস্ট মাউরি জিজ্ঞাসা করা হয় রাজ্যের ৯০ শতাংশ বাসিন্দা খ্রিস্টান। সেক্ষেত্রে কি বিজেপি কট্টরপন্থী অবস্থান গ্রহণ করবে? এর উত্তরে আর্নেস্ট মাউরি বলেন, বিজেপি সরকারের ৯ বছর হয়ে গেছে। আমরা এখনো কোনো গির্জায় হামলা হতে দেখিনি। গো মাংস খাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আমি গো মাংস খাই এবং আমি বিজেপিতে আছি, তাতে কোনো সমস্যা নেই। আমরা নিশ্চিত মেঘালয়ের মানুষ এবার বিজেপির সঙ্গে আছে। এনপিপি-র সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে মাউরি বলেন, মেঘালয়ে আমরা এনপিপির সঙ্গে কোনও জোট করিনি এবং ২০১৮ সালেও তা করিনি। আমরা নিজেরাই লড়াই করছি এবং তারাও তাদের ব্যক্তিগত শক্তির উপর লড়াই করছে। এনপিপি গত পাঁচ বছর ধরে বড় আকারের দুর্নীতির সাথে জড়িত এবং আমাদের দল দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু এনপিপি-র সঙ্গে জোট সরকারে বিজেপি থাকা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা এমডিএ সরকারে ছিলাম। কিন্তু বিজেপির মাত্র দু’জন বিধায়ক এবং একজন মন্ত্রী ছিলেন।মন্ত্রিসভায় আমাদের কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিল না। গত পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য যে সব দপ্তরে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে, সেগুলি হয় এনপিপি বা তাদের জোটসঙ্গী ইউডিপির হাতে। মাউরির অভিযোগ, মেঘালয়ে তৃণমূল জিতলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ হবে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct