আপনজন ডেস্ক: বুধবার কোচবিহার জেলার দিনহাটা মিশন গার্লস হাইস্কুলে ন্যাশনাল স্কিলস কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক বৃত্তিমূলক বিভাগের পক্ষ থেকে ছাত্রীদের ও অভিভাবকদের নিয়ে একটি হাতে কলমে শিক্ষার কর্মশালা আয়োজন করা হয়। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণীতে সিলেবাসে থাকা দুটি বিষয়ে এবার সরকারি বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে হাতে কলমে শিখতে পারবে। এবার থেকে ভোকেশনালাইজেশন অফ স্কুল এডুকেশনের অন্তর্গত ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং অ্যাপারেল এই দুটি বিষয় শিখতে পারবে। এদিনই সেই কারণে ছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের এক শ্রেণীকক্ষে এক বেঞ্চে বসে শিখতে দেখা গেল। ছাত্রীদের সঙ্গে অভিভাবকরাও শিখলো আজকে। ছাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ ছিলো চোখে পড়ার মতো। আজকের কর্মশালায় ৫৫ জন ছাত্রী ও ৩৯ জন অভিভাবক যোগ দেয়। বই খাতার মাধ্যমে এক ঘেঁয়েমি পড়াশোনার মধ্যে আজ বেশ কিছু হাতে কলমে শেখার সরঞ্জাম শ্রেণীকক্ষের মধ্যে দেখে সকলেই আগ্রহ দেখায় শেখার জন্য ও মনোযোগ দেয়। শ্রেণীকক্ষে সেলাই মেশিনের সাথে সাথে কম্পিউটার,ল্যাপটপ ও আরও বেশ কিছু যন্ত্রাংশ ছিলো। এরকম একটি প্রত্যন্ত গ্রামে সরকারি বিদ্যালয়ে হাতে কলমে শেখার বিষয়টি অভিভাবকদেরও বেশ ভালো লেগেছে। সারা রাজ্যে ৭২৬টি সরকার ও সরকার পোষিত উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই বিষয়গুলি চলছে। কোচবিহার জেলায় ৪২টি বিদ্যালয়ে এরকম ভোকেশনাল বিষয়গুলি নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। এক অভিভাবক গীতা মহান্ত বলেন, ‘সরকারি বিদ্যালয়ে ধীরে ধীরে উন্নতি ঘটছে, আজ এই বয়সে আমার মেয়ের সাথে আমিও কম্পিউটারের বেশ কিছু বিষয়ে শিখলাম।’ বিদ্যালয়ের এনএসকিউএফ বৃত্তিমূলক বিভাগের শিক্ষক শুভদীপ ভৌমিক জানান “হাতে কলমে শিক্ষার ফলে ছাত্রীরা কাজের সুযোগ পাবে তাঁর সাথে সাথে নিজেরাও স্বনির্ভর হবে,তাই এই কর্মশালার আয়োজন। বৃত্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম,সেটা সবাইকে বুঝতে হবে এবং শিখতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বেগম সুরাইয়া বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য ল্যাব পরিকাঠামোর উপর সরকারের আরো জোর দেওয়া উচিৎ এবং বৃত্তিমূলক বিষয়ের পাঠক্রম যাতে সঠিক সময়ে পায় সেদিকে সরকারের নজর রাখা উচিৎ। এত কম বয়সে ছাত্রীরা হাতে কলমে শিখছে সেটা দেখে খুব ভালো লাগছে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct