আপনজন ডেস্ক: সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অবশেষে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করল সোমবার। এই কেন্দ্রে বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুব্রত সাহা সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। তার জায়গায় প্রার্থী বাছাই নিয়ে বেশ কয়েকচি নাম উঠে আসছিল। প্রয়াত সুব্রত সাহার স্ত্রী নমিতা সাহা ও প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পুত্র অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এলেও তৃণমূল সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে সাগরদিঘী ব্লক তৃণমূল সভাপতি দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেদিক থেকে দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় সাগরদিঘীর ভূমিপূত্র বলা যায়। উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটারই বেশি। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী সাগরদিঘী ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যার হার ৬৪.৬৭ শতাংশ। আর হিন্দু জনসংখ্যার হার ৩১.৫৫ শতাংশ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটা উদার হয়ে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের কথা না ভেবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতে সংখ্যাগুরু প্রার্থী ঘোষণা করেছে। যদিও বিগত নির্বাচনগুলিতে সাগরদিঘীতে সংখ্যালঘুরা দ্বিধাহীনভাবে ধর্মীয় বিভাজনের ফাঁদে পা না দিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত সাহাকেই ভোট দিয়েছেনে উজাড় হয়ে। এবারের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশা, তিনিও সংখ্যালঘুদের সিংহভাগ ভোট পাবেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের যদিও ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে সংখ্যালঘুদের সিংহাভাগ ভোট পড়েছ তৃণমূলের দিকেব। আর সংখ্যাগুরুদের সিংহভাগ ভোট পেয়েছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মত্যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সৃব্রত সাহা ৫০.৯৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী মাফুজা খাতুন পেয়েছেন ২৪.০৮ শতাংশ ভোট। আর কংগ্রেস প্রার্থী সেখ এম হাসানুজ্জামান পেয়েছেন ১৯.৪৫ শতাংশ ভোট। এমনকী এই কেন্দ্রে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিম প্রার্থী নুরে মাহবুব আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তার জামানত জব্দ হয়েছে। তিনি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। মুসলিম ভোটের বিভাজন ঘটাতে সক্ষম হননি। ফলে, সংখ্যালঘু ভোটের উপর করেই যে সুব্রতবাবু বিপুলভাবে জিতেছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। কারণ, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ২৬.২৩ শতাংশ ভোট পেয়ে কংগ্রেস ও সিপিএমের ভোট কাটাকাটির দৌলতে জয়ী হয়েছিলেন। সেসময় কংগ্রেস প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ২৩.১৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। আর সিপিএম প্রার্থী রজব আলি মল্লিক পেয়েছিলেন ২৩.০৫ শতাংশ ভোট। কিন্তু ২০২১ সালে ভোটপ্রাপ্তির হার প্রায় দ্বিগুণ করে ৫০.৯৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ফলে, সংখ্যালঘু ভোটের উপর করেই যে সুব্রতবাবু বিপুলভাবে জিতেছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। উল্লেখ্য, সাগরদিঘী ব্লকে তিনজন জেলা পরিষদ সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন ইতি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন ও ভারতী হাসদা। এরা তিনজনই অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের। ইতি সাহা তফসিলি সংরক্ষিত আসনে জয়ী হলেও বাকি দুজন সাধারণ আসনে জিতেছেন।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct