আপনজন ডেস্ক: আইএসএফ-এর বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার সহ ধর্মতলায় পুলিশি লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন ফুরফুরার পীরজাদা তোহা সিদ্দিকী। রবিবার তোহা সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বললেন, আইএসএফ থেকে দাবি উঠেছে আরাবুল কাইজারকে গ্রেফতার করার, আর তৃণমূল থেকে দাবি উঠেছে নওশাদকে গ্রেফতার করা। মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে আরাবুলদের গ্রেফতার করা হল না, কিন্তু নওশাদ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা হল না কেন। তিনি বলেন, ভাঙড়ে কিংবা ধর্মতলায় যারা মার খাচ্ছে তারা সবাই সংখ্যালঘু। এটা দেখে রাজনৈতিক নেতারা মজা নিচ্ছে। এটা সংখ্যালঘুদের বোঝা দরকার। তবে, এর প্রভাব পঞ্চাযেত নির্বাচনে পড়বে কিনা সেই প্রশ্রে তোহা সিদ্দিকী বলেন, সেটা সময় কথা বলবে। তোহা বলেন, তৃণমূল সরকারে আসায় রাজ্যের সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আপনি আমাকে থেতে দিয়ে পেটে লাথি মারবেন তা হতে পারে না।
তিনি বলেন, ভাঙড় কিংবা ধর্মতলার ঘটনাটি দেখেছি। দেখেছি কিভাবে পুলিশ লাঠি চালাচ্ছে, কীভাবে আইএসএফ সমর্থকরা ইট ছুড়ছে, কীভাবে পুলিশ নওশাদ সিদ্দিকীকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগে বহু মিটিং মিছিল অবরোধ হয়েছে। তখনও পুলিশের ভূমিকা দেখেছি। কিন্তু ধর্মতলার ভূমিকাটা একটু অন্যরকম ভুমিকা। যেভাবে ছেলেগুলোকে মারা হচ্ছিল কুত্তাকে ওইভাবে মারা হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তোহা অকপটে জানান, নওশাদ সিদ্দিকী আমার পরিবারের একজন। কিন্তু সে একটি রাজনৈতিক দলের জামা পরে আছে, তাই এটি রাজনৈতিক বিষয়। নওশাদ সিদ্দিকী ছাড়া ফুরফুরা শরীফের কোনও পীরের ছেলেকে যদিও এইভাবে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেত, আজ বাংলায় কি ঘটনা ঘটত তা কল্পনা করা যেত না। তোহা সিদ্দিকী এ নিয়ে বলেন, আমার মনে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের কিছু মানুষ দলটাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য মুসলমানদের উপর অত্যাচার, জুলুম করছে যাতে সংখ্যালঘুরা এই সরকারে প্রতি বিরক্ত হয়ে যায়। তোহা অভিযোগ করেন, যে সংখ্যালঘুরা মমতাকে সরকারে এনেছে সেই সংখ্যালঘুদেরকে অবজ্ঞা করছেন এক শ্রেণির এমএলও, শীর্ষ নেতা। উদাহরণ হিসেবে তিনি তারক্শ্বেরে কথা তুলে ধরে বলেন, এখানকার ১৭টি পঞ্চায়েতের একটিতেও সংখ্যালঘু প্রেসিডেন্ট নেই। এভাবে নিচু স্তরে মুসলমানদের ডানা ছাঁটছে। এর ফলে বংলার মুসলনমানরা অসন্তুষ্ট হচ্ছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বলেন, বিজেপি অবরোধের সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকলেও পুলিশ যে ভুমিকা নিয়েছে, ধর্মতলার ক্ষেত্রে সেই ভূমিকা নেয়নি। জলকামান বা আরও কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাঠাতে পারত। আসলে প্রশাসনের এক শ্রেণির মানুষ চাইছে, মুসলমানরা যেন বিরক্ত হয়ে এই তুণমূল সরকারের থেকে দূরে সরে যায়। এটা তারা তৃণমূলের ক্ষতি করছে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct