প্রতিবন্ধী হয়েও নিজ নিজ প্রতিভার বিকাশ ঘটান বর্তমান শতাব্দীর শারীরিক প্রতিবন্ধী শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, জন্মান্ধ ফরাসি সাহিত্যিক রোদাকি, খঞ্জ লর্ড বায়রন, আধুনিক আরবি কবিতার জনক অন্ধ বাশ্শার বিন বোরদ, আধুনিক আরবি সাহিত্যের অন্যতম জনক অন্ধ ড. তাহা হোসাইন, আরবি ভাষার মহান কবি এবং যুক্তিবাদী দার্শনিক অন্ধ কবি আবুল আলা আল মা’আরি, শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিন, মহান সুরস্রষ্টা বধির বিটোভেন, বিখ্যাত আমেরিকান অন্ধ গায়ক রে চার্লস প্রমুখ। এই সাফল্য বা সফলতা শুধু স্বাভাবিক মহামানব বা মনীষীরাই নয়, অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন বা প্রতিবন্ধীরাও এর থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। তা নিয়ে লিখেছেন কায়সার আলি। আজ প্রথম কিস্তি।
শিক্ষিতরা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে, বুদ্ধিমানরা ধ্যান-ধারণা বিনিময় করে, আলোকিতরা হিরন্ময় মৌনতায় ডুবে যায়। জ্ঞানী এবং গুণীরা বলেন, হতাশা ও ব্যর্থতার শেষ আছে কিন্তু সাফল্যের শেষ নেই। বিজ্ঞানী এডিসন সাফল্য সম্পর্কে বলেন, মেধা ১ শতাংশ এবং পরিশ্রম ৯৯ শতাংশ। এই সাফল্য বা সফলতা শুধু স্বাভাবিক মহামানব বা মনীষীরাই নয়, অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন বা প্রতিবন্ধীরাও এর থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। পৃথিবীর প্রথম এবং দ্বিতীয় মহাকাব্য লিখেছিলেন জন্মান্ধ মহাকবি হোমার। প্রতিবন্ধী হয়েও নিজ নিজ প্রতিভার বিকাশ ঘটান বর্তমান শতাব্দীর শারীরিক প্রতিবন্ধী শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, জন্মান্ধ ফরাসি সাহিত্যিক রোদাকি, খঞ্জ লর্ড বায়রন, আধুনিক আরবি কবিতার জনক অন্ধ বাশ্শার বিন বোরদ, আধুনিক আরবি সাহিত্যের অন্যতম জনক অন্ধ ড. তাহা হোসাইন, আরবি ভাষার মহান কবি এবং যুক্তিবাদী দার্শনিক অন্ধ কবি আবুল আলা আল মা’আরি, শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিন, মহান সুরস্রষ্টা বধির বিটোভেন, বিখ্যাত আমেরিকান অন্ধ গায়ক রে চার্লস প্রমুখ। ৪৪ বছর বয়সে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান জন মিল্টন। এর ১৬ বছর পর লিখেছিলেন প্যারাডাইস লস্ট। ফরাসি নাগরিক লুইস ব্রেইল (১৮০৯-১৮৫২) অত্যন্ত মেধাবী, প্রতিভাবান এবং অধ্যবসায়ী ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। ৩ বছর বয়সে পিতার কারখানায় খেলাধুলার সময় সুইজাতীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে চামড়ায় গর্ত করার সময় সংঘটিত এক মারাত্ম্নক দুর্ঘটনায় তার চোখ দুটি চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় এবং তিনি অন্ধ হয়ে যান।
অন্ধ হয়ে গেলেও বন্ধ হয়ে যায়নি তার মেধার স্ফুরণ। চক্ষুহীন জীবনকে চক্ষুময় জীবনের মতো উপভোগের উপায় খুঁজে বের করার প্রাণান্তকর চেষ্টায় নিবেদিত হয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি অন্ধদের লেখা ও পড়ার জন্য কাগজের ওপর মাত্র ৬টি ডট দিয়ে জাদুকরি একটি অতি সহজ ভাষা ও পদ্ধতি (ব্রেইল ভাষা) আবিষ্কার করে পুরো পৃথিবীকে হতবাক করে দেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর অন্ধ লোকরা ৬টি ডটের অনবদ্য জাদু দিয়ে নিজেকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলে তাদের জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ণ বদলে দেন। পূর্বে টাইপ মেশিন দিয়ে ব্রেইল অক্ষর লেখা হতো, বর্তমানে কম্পিউটারের সাহায্যে ব্রেইল ভাষা লেখা হয়। পৃথিবীবাসী শুধু একটি পদ্ধতি আবিষ্কারের কারণে ব্রেইলের কাছে আযুগ ঋণী হয়ে থাকতে বাধ্য। তার আবিষ্কৃত ভাষার জন্য পৃথিবীবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে তার জন্মদিন অর্থাৎ ৪ জানুয়ারিকে বিশ্ব ব্রেইল দিবস হিসেবে পালন করছে। তার আবিষ্কারের সাফল্যের প্রতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের নতুন প্রজন্মের উৎসাহ উদ্দীপনা বৃদ্ধির জন্য একজন প্রতিবন্ধী কিন্তু- আলোকিত এবং কিংবদন্তির জীবনের সোনালি উজ্জ্বল চুম্বক অংশ না লিখে পারছি না। উনিশ শতকে এই বাসযোগ্য গ্রহে আশ্চর্য ও রহস্যময় অনবদ্য, অসাধারণ এক নারী হেলেন কেলার। নিজের দহনের আলোতে লাখ লাখ প্রদীপ জ্বালিয়ে পৃথিবী কাঁপানো মাহত্ম্যের মুকুট নিয়ে দেশে দেশে বাক-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের স্মৃতিতে চির ভাস্কর করে রাখার জন্য কাজ করেছেন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন বলেছেন, উনবিংশ শতাব্দীর দুটি সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্র নেপোলিয়ন এবং হেলেন কেলার। ১ম গায়ের জোরে পৃথিবী জয় করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিফল হয়েছিলেন, ২য় জন মনের জোরে পৃথিবী জয় করতে চেয়েছিলেন এবং তিনি সফল হয়েছিলেন। উত্তর আমেরিকার আলবামা রাজ্যে টাসকাম্বিয়া নামে ছোট শহরে আর্থার কেলার ও ক্যাথরিন কেলার দম্পত্তি ঘরে তিনি ১৮৮০ খ্রি. জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাত্র ১৯ মাস বয়সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভাগ্যের নির্দয়, নির্মম, নিষ্ঠুর পরিহাস ধীরে ধীরে কথা বলা, শোনা এবং দেখার শক্তি চিরতরে হারিয়ে যায়।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct