সজিবুল ইসলাম ও রাজু আনসারী, সাগরদিঘী, আপনজন: মুর্শিদাবাদে প্রশাসনিক সভা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সাগরদীঘি থানার ধুমারপাহাড় এলাকায় প্রশাসনিক সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভায় লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে কৃষক বন্ধু, সবুজ সাথী সহ বিভিন্ন প্রকল্পে উপভোক্তাদের হাতে পরিষেবা নিজ হাতে বিতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে গঙ্গা ভাঙন থেকে শুরু করে জাকির হোসেনের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি সহ ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের প্রশাসনিক সভায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী, মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক রাজশ্রী মিত্র, জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবুতাহের খান, শ্রম দপ্তরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী তথা জঙ্গীপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন, বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ আখরুজ্জামান, পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিং, জঙ্গিপুরের এসপি ড. ভোলানাথ পান্ডে সহ জেলার সব বিধায়ক সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। সুব্রত সাহার অকাল প্রয়াণে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। সেই সঙ্গে আগামী দিনে জঙ্গিপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল করার আর্জি রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনা নিতে বলেন জাকির, খলিলুর ও আখরুকে। এছাড়া বলেন, গায়ক অরিজিৎ সিং জানিয়েছেন জঙ্গিপুরে তিনি জঙ্গিপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তৈরি করতে চান। সে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ছাড়াও আরও একটা মেডিক্যাল কলেজ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হল। সভার শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। তারপর কলকাতার উদ্দ্যেশ্যে রওনা দেন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে বারবার আক্রমন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১০০ দিনের কাজের টাকা না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব হন। গঙ্গা ভাঙন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার কেন্দ্রকে বলার পরেও প্রাপ্য টাকা না দেওয়া ও ভাঙন নিয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিজেপি সরকারকে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক জাকির হোসেনের বাড়িতে ইনকাম ট্যাক্সের রেড নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে জাকিরের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রের নির্দেশে বাংলার সরকারকে হেনস্থা করছে। তৃণমূলের শক্তিশালী লোকদের খুঁজে বের করে অপদস্থ করা হচ্ছে। আর তা করছে ‘দিল্লির লাড্ডুরা’। এমনটাই অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।সোমবার সাগরদিঘির সভা থেকে তিনি বলেন, এভাবে বাংলার সরকারকে রোখা যাবে না। বলেন, ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারদের রুখতে পারবে না দিল্লির লাড্ডুরা’। এদিন তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় রাজত্ব চলবে না। ক্ষমতা আজ আছে, কাল নেই’। তাঁর কটাক্ষ, ‘ক্ষমতায় আছে বলে নিজেকে হিরো মনে করছে। ক্ষমতায় না থাকলেই জিরো, বিগ জিরো’। হুঁশিয়ারি, ‘বুলডোজারের রাজনীতি বেশিদিন চলবে না। ক্লোজার হবেই’। বলেন, ‘বদলা নেব না, বদল হবেই’।তাঁর কটাক্ষ, বিজেপি চালিত সরকার মানেই আধার, প্যান, ক্যা ক্যা (সিএএ), এনআরসি’র নামে চক্রান্ত। এরপরেই তিনি বলেন, ‘দিল্লির লাড্ডুরা বুঝতে পারছেন রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে কি আটকানো যায়?’ মুখ্যমন্ত্রীর দৃঢ় বক্তব্য, ‘এতে তৃণমূল আরও শক্তিশালী হচ্ছে’। জমায়েতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কুৎসা-অপপ্রচারে কান দেবেন না। যা হবে সরাসরি জানাবেন।
আবাস যোজনায় দুর্নীতি নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিজেপি। সোমবারে সাগরদিঘির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই প্রকল্পে দুর্নীতি করছে বিজেপি। এদিন তৃণমূল চেয়ারপার্সন বলেন, জায়গায় জায়গায় বিজেপি নেতারা নিজেদের লোকের নাম ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে ৬ বিজেপি নেতামন্ত্রীর নাম। তালিকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী থেকে বিধায়কের আত্মীয়-পরিজনের নাম। আবার কোথাও সুবিধাভোগী খোদ নেতা-নেত্রী। এবার তৃণমূল সুপ্রিমো ফের এই অভিযোগ তুলে সরব হলেন।উল্লেখ্য, আবাস যোজনার টাকা, ১০০ দিনের কাজ সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা না পাওয়া নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, এদিন আবাস যোজনার প্রাপ্য টাকা চেয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রককেও। এদিন তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় রাজত্ব চলবে না। ক্ষমতা আজ আছে, কাল নেই’। তাঁর কটাক্ষ, ‘ক্ষমতায় আছে বলে নিজেকে হিরো মনে করছে। ক্ষমতায় না থাকলেই জিরো, বিগ জিরো’। তাঁর নিশানায় ছিল, বাম এবং কংগ্রেসও। তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, রাজ্যের টাকা এবং উন্নয়ন আটকাতে রাম-বাম- শ্যাম জোট বেঁধেছে। ওরা বিজেপি-বাম ও কংগ্রেস।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct