আপনজন ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট হালদওয়ানির ‘রেলওয়ে জমি’ থেকে ৪,০০০ এরও বেশি পরিবারকে উচ্ছেদের জন্য উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কৌল এবং বিচারপতি অভয় এস ওকার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ বলেছে, এর মধ্যে একটি মানবিক দৃষ্টিকোণ রয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে কয়েক হাজার লোককে উৎখাত করা যাবে না। বেঞ্চ জোর দিয়েছিল যে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া মানুষকে উৎখাত করা যাবে না। যুক্তিতর্ক শোনার পর, শীর্ষ আদালত এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবারগুলিকে উচ্ছেদ এবং তাদের বাড়িগুলি ভেঙে ফেলার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা একগুচ্ছ পিটিশনের ভিত্তিতে উত্তরাখণ্ড সরকার ও রেলকে নোটিশ জারি করে শীর্ষ আদালত। শুনানির সময়, শীর্ষ আদালত রেলওয়েকে এই সমস্যার একটি বাস্তব সমাধান খুঁজে বের করতে বলে। আরও বলা হয়, অনেক দখলদার ইজারা এবং নিলাম ক্রয়ের ভিত্তিতে অধিকার দাবি করে কয়েক দশক ধরে সেখানে বসবাস করছে।
সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ‘বিষয়টির দু’টি দিক রয়েছে। এক, তারা ইজারা দাবি করে। দুই, তারা বলে যে ১৯৪৭ সালের পরে লোকেরা স্থানান্তরিত হয়েছিল এবং জমিগুলি নিলাম করা হয়েছিল। বিচারপতি কৌল প্রশ্ন তোলেন এই জমিতে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যে আপনি কীভাবে বলতে পারেন যে সাত দিনের মধ্যে তাদের সাফ করে দিতে পারেন? বিচারপতি ওকা উল্লেখ করেছেন, যে লোকেরা ৫০ বছর ধরে সেখানে তারা অবস্থান করছে। তিনি আরও বলেন, ‘নিলামে যারা জমি কিনেছেন, তাদের পরিস্থিতি আপনি কীভাবে মোকাবেলা করবেন। আপনি জমি অধিগ্রহণ করতে পারেন ও ব্যবহার করতে পারেন। রেলওয়ের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বরিয়া ভাট জানান, জমিটি রেলওয়ের অন্তর্গত ও পাবলিক প্রাঙ্গন আইনের অধীনে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিছু আবেদনকারীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, কোভিডের সময়কালে এক্স পার্টি অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। যদিও ভাটি সওয়াল করেন, আবেদনকারীরা জমিটিকে তাদের নিজস্ব বলে দাবি করে এবং তারা পুনর্বাসন চায়নি। শীর্ষ কোর্টের বেঞ্চ বলেছে, উচ্চ আদালত ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের কথা না শুনেই এই আদেশ দিয়েছে। অার বিচারপতি কৌল হাইকোর্টের উদ্দেশ্যের বলেন, ‘কিছু সমাধান খুঁজে বের করুন। এটি একটি মানবিক সমস্যা। তবে, শীর্ষ কোর্টের এই স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন হালদওয়ানির সংখ্যালঘু বাসিন্দারা। এই স্থগিতাদেশ তাদেরকে স্বস্তি এনে দিয়েছে। পরবর্তী শুনানি হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct