রাহেন খন্দকার, দিনহাটা, আপনজন: মায়ের কষ্ট মেয়েই বোঝে দিনহাটা মহকুমা শাসকের ব্যবহারে বললেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত প্রেম কুমার বর্মনের মা সুখমনি বর্মন। সোমবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গিতালদহে বিএসএফের গুলিতে নিহত প্রেম বর্মনের বাড়ির লোকজনের হাতে দুই লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হয়ে প্রেম কুমার বর্মনের বাড়িতে চেক নিয়ে আসেন মহকুমা শাসক রেহেনা বসির। দুই দিন আগে তরতাজা ছেলেকে হারিয়ে এখনো শোকে বিহ্বল প্রেম কুমার বর্মনের মা। ভালোবাসার টুকরো প্রেমকে হারিয়ে খাওয়া-দাওয়া ছেড়েছেন সেদিন থেকেই। পাড়া-প্রতিবেশীদের আকুল নয়নে কেঁদে ভাসিয়ে জানাচ্ছেন প্রেমের প্রতি টানের কথা।
মাঝে মাঝে মুর্চ্ছাও যাচ্ছেন তিনি। সন্তান হারানো শোকে কাতর মায়ের কান্না ছুঁয়ে গেছে স্বয়ং মহকুমা শাসকের হৃদয়। ক্ষতিপূরণের চেক পৌঁছে দিতে গিয়ে প্রেমের মাকে জড়িয়ে সান্ত্বননা দেন মহাকুমার শাসক। শোকে কাতর মাকে পান করিয়ে দেন এক গ্লাস জল। সেই জলের ছোয়ায় খানিকটা হুঁশ ফিরে মায়ের। তখন জল ছল ছল চোখ মহকুমা শাসকেরও । পুত্র হারা হারানো জননী কে মহকুমা শাসকের সস্নেহে সমবেদনা নজর কেড়েছে উপস্থিত জনতার। এই দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলে বসে থাকা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী ও সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া চেয়ার ছেড়ে মহকুমা শাসকের পাশে এসে দাঁড়ান। তখন সরকার প্রেরিত চেক মৃতের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মন্ত্রী উদয়ন গুহর হাতে তুলে দেন মহকুমার শাসক রেহেনা বসির। তারপরে এলাকাবাসীদের কাছে তাদের সমস্যার কথা শুনে চলে আসেন মহকুমা শাসক। এরপরেই বাড়ির লোকজনের নিয়ে আসা ফল মুখে তুলেছেন প্রেমের মা সুখমনি বর্মন। তখন ছল ছলে চোখে কলা খেতে খেতে তিনি বলেন মায়ের কষ্ট মেয়েরাই জানে। সুখে থাকুক ম্যাডাম। প্রেম কুমার বর্মনের পড়শী রাহিলা বিবি বলেন, যেভাবে সস্নেহে জল পান করে প্রেমের মাকে সান্ত্বনা দিল এরকম দৃশ্য কোনদিনও দেখিনি। সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিলেন এই মহকুমা শাসক। ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছেন তিনি। এভাবে সান্তনা দেওয়ায় যেন তিনি প্রেমের বাড়ির মেয়ে হয়ে উঠেছেন তিনি।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct