সুব্রত রায়, কলকাতা, আপনজন: গঙ্গাসাগর মেলায় জঙ্গি হামলা ঠেকাতে উপকূল রক্ষীবাহিনীকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বাংলাদশ সীমান্ত সহ গঙ্গাসাগরের বিস্তীর্ণ জলপথের বহিরাগিতরা যাতে বেয়াইনি ভাবে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গড়ে তুলতে বড় জাহাজ, লঞ্চ ও একাধিক স্পিড বোর্ড ব্যবহার করবে উপকূল রক্ষী বাহিনী। ভেসেল এবং লঞ্চগুলিতে জিপিএস ট্র্যাকিং রাখা হবে। গঙ্গাসাগরের ঘাটগুলিতে নজরদারি জোরদার করতে ১, ৫০০ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় মনিটারিং সিস্টেম চালু থাকবে। থাকছে মেগা কন্ট্রোল রুম এবং ড্রোনে নিয়মিত নজরদারি।এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে যাতে কেউ বন্দুক নিয়ে ঢুকে অশান্তি করতে না পারে। বুধবার নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। সতর্ক থেকে রুখে দিতে হবে অশান্তির ছক। নিরাপত্তা জোরদার করতে ২,১০০ সিভিল ডিফেন্স সহ একাধিক বাহিনী প্রস্তুত থাকছে। পাশাপাশি রাখা হচ্ছে ১০টি ফায়ার স্টেশন। সাগরমেলার জন্য ২,৫০০ সরকারি বাস, ৫৫০ বেসরকারি বাস, ৩২ ভেসেল, ২১ জেটির ব্যবস্থা থাকবে। সড়কে থাকছে ১১টি বাফিং এবং ১০টি পার্কিং জোন। এছাড়াও জলপথের জন্য থাকছে অত্যাধুনিক ড্রেজিং এবং চ্যানেল। ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট টিমের পাশাপাশি থাকছে ৬,৫০০ স্বেচ্ছাসেবক। উল্লেখ্য, সাগর তীর পরিষ্কার রাখতে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক। ১০ হাজার টয়লেটের পাশাপাশি রাখা হচ্ছে বিশেষ গার্বেজ ক্লিনিং ব্যবস্থা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইকো ফ্রেন্ডলি’ জোনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ, পরিবহণ এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের জন্য থাকছে ৫ লক্ষ টাকার অ্যাক্সিডেন্টাল ইনস্যুরেন্স। তিনি জানান, স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সাগর সহ বিভিন্ন জায়গায় ৩০০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ইনসেনসিভ কেয়ার ইউনিট। পাশাপাশি থাকবে অস্থায়ী পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct