বালকের বইয়ের কয়েক পৃষ্ঠা
আব্দুল রহিম
শূন্য দশকের অন্যতম শক্তিশালী কবি গোলাম রসুলের কাব্যগন্থ ‘ বালকের বইয়ের কয়েক পৃষ্ঠা ‘ বইটি পড়লাম। কবির শব্দ চয়ন ও তুখোর ভাষা দক্ষতা বারবার আমাদের মুগ্ধ করেছে । কবি তার কবিতাঁয় শূন্যকে নিয়ে নিজের একটা জগত সৃষ্টি করেছেন , কবি সেখানে বসে মানুষের ভালোবাসার আরাধনা করেন , এখনও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায় , তার লেখায় বারবার বলতে চেয়েছেন আজও সমাজ প্রচণ্ড কুসংস্কারে আবদ্ধ তাই মানুষ এতো হিংস্র,এও বারবার বলেছেন শুধু মন্দির মসজিদে ঈশ্বরের দেখা মিলেনা, ঈশ্বরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় তোমার জন্য ফুটে ওঠা মানুষের বিন্দু বিন্দু হাসিতে হাসিতে।আমার ধারণা হয়তো এর আগে এতো সূক্ষ্ম করে শূন্যকে নিয়ে কেউ লিখে যেতে পারেনি , কবি লিখেছেন শূন্য যেখানে শূন্য নয় / আকাশে সংখ্যা গরিষ্ঠ নক্ষত্ররা আমাদের ছেলে মেয়েদের পাহারা দিচ্ছে হৃদয় /ফাঁকা মাঠ চাকা ঘুরতে ঘুরতে অদৃশ্য হয়ে গেল / প্রাচীন কুয়াশা,আমি ভাবছিলাম কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল / আকাশে অবধি সিঁড়িতে উঠে দেখলাম দরজা বন্ধ জলাশয়ের / সূর্য ডুবেছে হিংসুটে পৃথিবীর উপর / শূন্যতার নীচে দাঁড়িয়ে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন আমি।
পৃথিবী পাপের জাহাজে চড়ে এগিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের দিকে কবি থমকে দাঁড়িয়ে বারবার শুনতে পেয়েছেন গলায় আটকে যাওয়া মানুষের কান্নার করুণ আর্তনাদ, কবি তার কবিতা আবারও লিখেছেন যুদ্ধ আর লোহার মতো বেঁচে থাকা / লবনের সড়ক , ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছে যে যুবক তার হৃদয় বিস্তৃত কবর খানার নীচে প্রস্তর যুগের উদ্ভিদ /একটি রুটির আকারে মানবজাতির সভ্যতা / আগে কে জানত এতো কঠিন হবে মানুষের জীবন / একটি যুদ্ধের চেয়ে একটি প্রেম অনেক বেশি বিধ্বংসী। কবি তার জীবনের শূন্যতা ও যন্ত্রণাকে গিলে নিয়ে বাঁচতে শিখেছেন তার কবিতার মধ্যে এ যেন খসে পড়া উল্কাপাতের পরেও পরম সুখ। কাব্যগন্থে প্রতিটা কবিতার পংক্তিতে পংক্তিতে ফুটে উঠেছে একটা কল্পনার জগত, যেখানে ক্যাকটাসের মতো মানুষের বেঁচে থাকা, বুকে পাথর বেঁধে ঈশ্বরকে খোঁজার কথা, কবির জীবন চিত্র, মানুষের বুকে জমা থাকা করুণ স্বর, সভ্যতার সাথে সাথে মানুষের উলঙ্গ হয়ে যাবার ভয়। কবি নিজেই যেন বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। প্রকাশক আরম্ভ পাবলিকেশন।| প্রচ্ছদ দেব সরকার।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct