নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা, আপনজন: ফের নিয়োগে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে এলো আদালতের কাছে। ১৮৩ জনের পর এবার আরও ৪০ জনের নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক পদে বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া ‘ভুয়ো’ শিক্ষকের সন্ধান মিলল। এই ৪০ জনের নম্বর অনৈতিক ভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।এবার তাঁদের ওএমআর শিট আপলোড করার নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিত্ গঙ্গোপাধ্যায়।মঙ্গলবার আদালতে বিচারপতি বলেন, -’ যাঁদের নম্বর ০ থেকে ৫২ বা তার বেশি করা হয়েছে সেই ‘বিকৃত’ ওএমআর শিটগুলি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপলোড করতে হবে ওয়েবসাইটে, যে সংখ্যাটা ৪০। যাঁদের নাম প্রকাশ করা হবে, তাঁরা চাইলে মামলা লড়তে পারেন’। সেজন্যও সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই করতে হবে মামলা। লিখিত আকারে নিজেদের বক্তব্য জানাতে পারবেন ওই ৪০ জনই, প্রয়োজনে তাঁদেরও সংশ্লিষ্ট মামলায় যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস।নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এর আগে প্রাথমিক চার্জশিট পেশ করেছিল সিবিআই। সেই চার্জশিটেই বলা হয়েছিল, ওএমআরশিট বিকৃত করে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, নবম-দশমে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে সিবিআই আরও জানিয়েছিল যে -’ স্কুল সার্ভিস কমিশনের দফতর এবং উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে হার্ড ডিস্ক উদ্ধার করা হয়েছে’। পশ্চিমবঙ্গের স্কুল সার্ভিস কমিশনের ওমএমআর শিট সংক্রান্ত হার্ড ডিস্ক কীভাবে গাজিয়াবাদে গেল?. সেটাই সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল। সেসময় বিচারপতি অভিজিত্ গঙ্গোপাধ্যায় এ ব্যাপারে আরও গভীর তদন্তের নির্দেশ দেন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এজন্য সিবিআইয়ের অধীনে সিটও গঠন করতে বলা হয়। অশ্বিনী সিংভির নেতৃত্বে সেই সিট গত সোমবার রিপোর্ট পেশ করে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে। তাতে সিট জানায়, -’ স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে খুব কম করে ২১ হাজার পদে নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছিল’।এর আগে গত সপ্তাহেই হাইকোর্টের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশন ১৮৩ জন অযোগ্য চাকরি প্রাপকের নামের তালিকা প্রকাশ করেছিল। তার পর আরও ৪০ জন অযোগ্যের সন্ধান পাওয়া গেল। সেক্ষেত্রেও সেই ওমআর শিটই বিকৃত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শিটে কারচুপি করেই ৪০ জনকে চাকরির সুপারিশ করেছিল এসএসসি। সব মিলিয়ে, এই নিয়ে নবম-দশমে ২২৩ জন বেআইনিভাবে চাকরি প্রাপকের হদিশ মিললো।অভিযুক্ত ৪০ জন শিক্ষক আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাবেন আদালতের কাছে।
All Rights Reserved © Copyright 2025 | Design & Developed by Webguys Direct